TURNER IT SOLUTION

রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ || সময়- ১২:৩৭ am

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include() [function.include]: Failed opening 'usbd/config/connect2.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: mysql_num_rows() expects parameter 1 to be resource, boolean given in /home/onn24/public_html/details.php on line 84

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সফল এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম জনাব আলী গাজী

  • সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সফল এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম জনাব আলী গাজী

    সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সফল এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম জনাব আলী গাজী

পৃথিবীতে কেউ প্রতিভা নিয়ে জন্ম নেয়না। আস্তে আস্তে পৃথিবীতে আপন আলোয় নিজ গুনে উজ্জ্বল হতে হয়। তেমনি একাধিক সফল কর্মের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র জনাব আলী গাজী জনবহুল জনপদ বৃহত্তর যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের মৃত হাতেম আলী গাজী ও মাতা মৃত তারাবান বেগম এর জৈষ্ঠ্য পুত্র জনাব আলী গাজী। ১৯৪৪ সালের ৪ঠা মে জন্ম তার। শহর থেকে অনেক  দূরে এক অজ পাড়াগাঁয় বেড়ে উঠা। গ্রামের তিনদিক খালবিল দ্বারা বেষ্ঠিত। একদম পাড়া গাঁয়ে তার অবস্থান। বাবা ছিলেন একজন দক্ষ কৃষক  আর মা ছিলেন  একজন আদর্শ গৃহিনী। বাবা-মায়ের আট সন্তানের মধ্যে জনাব আলী গাজী সর্ব জৈষ্ঠ্য। অশিক্ষিত বাবা-মায়ের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য কোন ঘাটতি ছিলনা। ভাই-বোন সবাই স্কুল-কলেজের সীমানা পেরিয়ে স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান করছে। জনাব আলী গাজীর শৈশবে এক গৃহ শিক্ষক ডাঃ ইন্দ্রমোহনের কাছে শুরু হয় তার হাতে খড়ি। হাটি হাটি পা পা করে গড়ে ওঠা এ সংগ্রামী কঠোর জীবন। এলাকার কেউ ভাবতেও পারেনি গ্রাম বাংলার এই কাঁদাভরা মাঠ ঘাটে  পড়ে থাকা  পল্লীর আনাচে কানাচে  প্রতিভার বিকাশ ঘটবে। তার নেশা ছিল গান লেখা, ছড়া লেখা, গল্প লেখা  গানে সুর করা। এলাকার মুরুব্বিদের মন্তব্য সেই শিশু জনাব আলী একদিন কবি-সাহিত্যিক-গীতিকার-সুরকার বেতার ও টিভির খ্যাতিম্যান ব্যক্তিত্বদের সানিধ্য পাবে ভাবতেই অবাক লাগে। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে কন্ঠে কন্ঠ মেলাবে  গ্রামের চারদিকে বিল আর ঝিলের মাঝে শাপলা-কলমি বনে পানকৌড়ি বালি হাঁসের ডাক শুনে তার সাহিত্য প্রতিভার বিকাশ ঘটবে। শিশুকাল থেকেই গ্রামের আর ছেলেদের সাথে হাডুডু , লবনদাঁড়ি, গোল্লাছুট, কুস্তি লাগায় বিশেষ পারদর্শী ছিল। ডান পিঠে জনাব আলী যেখানে সেখানে খেলা-ধুলা অথবা গানের প্রতিযোগিতা হলে ছুটে যেতেন সেখানে। সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে বাবা মায়ের বকুনি শুনে ছুট দিতেন তাদের পুকুর ঘাটে। সেখানেও পাড়ার ছেলেরা বসে থাকতো তার সাথে সাতারের প্রতিযোগিতার জন্য বাবা-মায়ের বকুনি ভূলে পানিতে নেমে পড়তেন। তারপর চুপি চুপি দাদির কাছে আশ্রয় নিতেন। দাদী প্রচন্ড ভালবাসতেন তাকে। দাদা মারা গেছেন খুব ছোট কালেই, তাই দাদার কথা স্মরণে আসে না তার। শুধু মনে পড়ে দাদী তাকে কোলে করে নিয়ে দাদার কবরের কাছে নিয়ে বলতো তোমার দাদা ঐ বালির রাজর দেশে গেছে। দাদার ভালবাসার অভাব তাকে বেদনা দেয়। লেখা পড়ার প্রতি বেশি মনোযোগ ছিল না তার। সব সময় হাঁসি আনন্দের মাঝে দিন কাটাতেই পছন্দ করতেন। গান বাজনার প্রতি আকর্ষণ ছিল বেশি। তিনি বলেন আমাদের এলাকায় তৎকালিন সময়ে পাড়ায়  পাড়ায়  ছোট পালা গানের আসর বসত। পড়াশুনা বাদ দিয়ে সব সময় গান  শুনতে যেতাম। রাত কি রাত যাত্রা  গান শুনে বেড়াতাম। বাবার  বড় ছেলে তাই অনেক আবদার করতাম। বাবার কাঁধে চড়ে দূরে  গান শুনতে যেতাম।  আর তখন প্রচলন ছিল কলের গান। গ্রামে গ্রামে কলের গানের আসর বসতো। বিশেষ করে সুর সম্রাট আব্বাস উদ্দিন আহম্মেদ এর পল্লীগীতির রেকর্ড চাপালে আমি ঘরে বসে থাকতাম না।  আমার প্রিয়  শিল্পী ছিল আব্বাস উদ্দীন আহম্মেদ। আজও তার প্রতি আকর্ষণ আমাকে প্রভাবিত করে। জানা যায় তার জন্মস্থান যশোর জেলা খেজুরের গুড়ের জন্য বিখ্যাত শীতে গুড় খেয়ে সুরেলা কন্ঠে  সুর তুলে মাঠে ঘাটে খেজুর বাগানে আপন মনে গাইতেন গান। পাড়ার ভাবীরা ডেকে গান শুনতে চাইতো আর শুনিয়ে দিত আব্বাস উদ্দিন আহমেদ এর গান। ঘাত প্রতি- ঘাতের মধ্যেই বেড়ে উঠা তার জীবন। সেসময় নিকটবর্তী স্কুল কলেজ না থাকায় দূরের স্কুলে গিয়ে লেখা পড়া করেছেন তিনি। নিজেকে এগিয়ে যেতে হবে স্বপ্নের চুড়ায় সেই চিন্তা করেই লেখা পড়া জীবনে লজিং এর মতো কষ্টের জীবন অতিবাহিত করেছেন। কলেজ জীবনে পদার্পন করেই জীবনের পট পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখলেন তিনি। একটি দেয়ালিকায় নিজের লেখা প্রকাশ হয়। তার লেখা দেখে বন্ধু স্বর্গীয় নিমাই বিশ্বাস আনন্দিত হলেন এবং তাকে অনুপ্রেরণা দিলেন এবং পরামর্শ দিলেন উপন্যাস লেখার সেই থেকে শুরু উপন্যাস লেখা। প্রথম উপন্যাস লিখে ঢাকার পুুরাতন প্রকাশনী তাজমহল বুক ডিপো তার পান্ডুলিপি দেখে ছাপাতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। প্রকাশক ছিলেন তমিজ উদ্দিন সাহেব। কিন্তু দূর্ভাগ্য ১৯৭১ সালে খান সেনারা বইয়ের কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। তার প্রথম উপন্যাসটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কোন কপি তার কাছে সংগ্রহ ছিলনা এত কিছুর পর থেমে থাকেনি সে। শুরু করলেন বিভিন্ন মাসিক, পাক্ষিক, সাপ্তাহিক ও দৈনিক পত্রিকা গুলোতে নিয়মিত লেখা শুরু করা। নিয়মিত তার লেখা প্রকাশ হতো দৈনিক স্ফুলিঙ্গ, দৈনিক রানার, সাপ্তাহিক ছায়াপথ, সপ্তডিঙ্গা পত্রিকায়। তার লেখার ভিতরে ছিল ভিন্নতা। অনেক টেলিভিশন ও রেডিও শিল্পীরা তাকে সঙ্গীতের অঙ্গনে লেখার আহবান জানান। এক সময়কার সাড়া জাগানো বেতার শিল্পী বাবু অশোক কুমার দে ও শাহ আলম বাদলের অনুপ্রেরণায় সুযোগ হয় খুলনা বেতারের গীতিকার হওয়ার সাফল্য। পিছনে আর ফিরে তাকাতে হয়নি তার। প্রথম তার গান ইথারে ভেঁসে আসে শিল্পী মির্জা গোলাম রসুল এর কন্ঠে। প্রথম গান প্রচারের পরে দর্শক শ্রোতাদের অদম্য ভালবাসা তাকে উজ্জীবিত করে  আরো সঙ্গীত অঙ্গনে ভাল সৃষ্টিতে। যশোর এম.এম. কলেজে অধ্যায়ন কালে শুধুু গান লেখা নয় অভিনয়ে ছিল তার পারদর্শীতা ‘ভাড়াটে চাই, রাজবন্ধি, পল্লী মেয়ে নাটকে অভিনয় করে কৃতিত্ব অর্জন করেন। ১৯৬৩ সালে কলেজের এক অনুষ্ঠানে  সেই সময়কার স্বনামধন্য ওস্তাদ বাবু পুলিন বিহারীর চোখে পড়ে সে। পুলিন বাবু পরামর্শ দেয় গানের একাডেমিতে আসার জন্য কিন্তু পারিবারিক চাপে একাডেমিতে যাওয়া সম্ভব হয়ে উঠেনি। কিন্তু গানের প্রতি ঝোকটা আরোও প্রগাড়ভাবে দেখা দেয়। বাংলাদেশের নামকরা গুনি শিল্পিদের সানিধ্য পাওয়ার সুযোগ তার হয়েছে। যাদের সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য হয় তার হলেন মোস্তফা জামান আব্বাসী, কে.এম. চাঁদ মিয়া, মিল্টন খন্দখার, রফিকুজ্জামান, মনিরুজ্জামান, হাসান মতিউর রহমান, প্রণব ঘোষ সহ অনেক গুনি মানুষদের সাথে পথ চলতে সক্ষক হয়েছেন। শক্তিমান কন্ঠ শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর কন্ঠেও জনাব আলীর গান প্রচারিত হয়েছে। মোস্তফা জামান আব্বাসীর সার্বিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের একজন স্বনামধন্য গীতিকার হিসেবে নিজেকে আতœ প্রকাশ করে। তার নিজের লেখা হামদ্ ও নাতের বই পাবলিষ্ট হয়েছে ঢাকার একটি প্রকাশনী থেকে। খুলনা বেতারের জনপ্রিয় ‘আয়না’ অনুষ্ঠানের বর্তমান সুরোত চরিত্রে অভিনয় শিল্পী সফি সম্রাট এর সুর ও কন্ঠে ‘চোখ ভরা জল’ জি. এম. হাফিজ এর কন্ঠে ‘বৃথা ভালবাসা’ নামে আরেকটি অডিও সিটি বাজারে আসে। লেখক জনাব আলী গাজী ২০০৭ সালে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ‘সুরোত স্মৃতি পদক লাভ করেন। জীবনের এই পড়ন্ত বেলায় কি পেলাম সে হিসাব করতে চায়না জনাব আলী গাজী কিন্তু হাজার দর্শক শ্রোতাকে কি দিতে পারলাম সেই হিসাব করেন তিনি। রোগে-শোকে ভরা দেহখান তার । সকলের দোয়া ভালবাসার আশায় উন্মুখ হয়ে থাকে সব সময়। দুই সন্তান এর জনক দুজনই সরকারী সিকিউরিটি ব্র্যাঞ্চে চাকুরী করে। নাতি-পুতিদের নিয়ে দিন কাটে তার। যতদিন বেঁচে থাকবে লেখা নিয়ে ডুবে থাকতে চাই সে। লেখক এর সাথে আলাপ চারিতায় বলেন আজ প্রায় সত্তর বছরের জরাজীর্ণ দেহ নিয়ে আপনাদের মত লেখক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সহকর্মীদের সাথে মিলেমিশে আছি বলেই বেঁচে আছি। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সবাই তাকে ভালবেসে গাজী ভাই বলে ডাকতেন, সে ছিল সবার প্রিয় গাজী ভাই। তিনি বলেন কেন জানি ফেলে আসা দিন গুলি বার বার মনে পড়ে। বয়সের ভারে বাইরে চলা তার আর হয়ে ওঠে না বেশি। সাংস্কৃতিক সহকর্মীদের ভালবাসা পাওয়া অনেকটাই দুরাহ হয়ে পড়েছে। জনাব আলী গাজীদের মত গুনি মানুষদের জন্ম বার বার হয় না। জনাব আলী গাজীদের সফলতার পথ বেয়ে এগিয়ে যাক আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। আলোকিত জনাব আলী গাজী আলো ছড়াক সারা বিশ্বময় সেই সকল ভালবাসা তার প্রতি আমাদের।

ONN TV
payoneer
নিউজ আর্কাইভ
সর্বাধিক পঠিত
সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ ব্যাপী ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

সাতক্ষীরা  প্রতিনিধি: সখিপুর ইউনিয়নের সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ দিনব্যাপী ক্রীড়া, কুইজ, রচনা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বে-সরকারি প্রতিষ্ঠা

জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ
জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে গনসংযোগ করেছেন জেলা পরিষদের সদস্য প্রার্থী সোনিয়া পারভীন শাপলা। সোমবার

দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নবগত নির্বাহী অফিসারের সাথে ফুলের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়
 শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলা নবগত নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নের্তৃবৃন্দরা। সোমবার দুপুরে নির

দেবহাটায় ছাত্রলীগের ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট
৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট

মীর খায়রুল আলম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দেবহাটায় ছাত্রলীগের উদ্যেগে ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার গোপাখালি মাঠে দে

দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন
দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন

মীর খায়রুল আলম:: দেবহাটা উপজেলাকে মডেল করতে ছুটির দিনে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল-আসাদ। শুক্রবা

শিরোনাম