TURNER IT SOLUTION

মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ১০:৩১ pm

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include() [function.include]: Failed opening 'usbd/config/connect2.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: mysql_num_rows() expects parameter 1 to be resource, boolean given in /home/onn24/public_html/details.php on line 84

৬৯’র গণ অভ্যুত্থানের মহানায়ক শহীদ আসাদ

  • ৬৯’র গণ অভ্যুত্থানের মহানায়ক শহীদ আসাদ

    ৬৯’র গণ অভ্যুত্থানের মহানায়ক শহীদ আসাদ

২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে স্বৈরাচারী আইয়ুব শাসন বিরোধী গণ অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের সড়কে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এই অকুতোভয় লড়াকু।


শহীদ আসাদ এর পুরো নাম আমানউল্লাহ মোহাম্মদ আসাদ। ১৯৪২ সালে নরসিংদী জেলায় তাঁর জন্ম । ছাত্রনেতা আসাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাষ্টার্স করছিলেন। আসাদ ছাত্র রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন এর ঢাকা হল শাখা প্রেসিডেন্টও ছিলেন।
৬৬’র ৬ দফার পর পূর্ব পাকিসস্তানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাদের ১১ দফার ভিত্তিতে আন্দোলন শুরু করে। ছাত্র সমাজের তীব্র আন্দোলনের কারণে ১৯৬৯ এ এই আন্দোলন গণ অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মিটিং করে। এ মিটিং থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১১ দফার দাবিতে ২০ জানুয়ারি হরতাল পালনের।


ছাত্র সমাজ পূর্ব পাকিস্তানের সকল স্কুল, কলেজ বন্ধ ঘোষণা দেয়। গভর্নর মোনায়েম খান ২০ জানুয়ারি ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে। পাকিস্তান পুলিশ থেকে বলা হয় শহরের কোথাও চার জনের বেশি লোক একসাথে বের হলে তাদের গ্রেফতার করা হবে। ২০ তারিখ ঢাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন কলেজের প্রায় ১০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী জড়ো হয়। ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ১১ দফা দাবিতে শহরে মিছিল বের করে।
ওই মিছিল মেডিকেল কলেজের সামনের সড়কে এসে পৌছলে সেখানে পুলিশ বাধা দেয় এবং লাঠিপেটা শুরু করে। এ সময় পুলিশের সাথে ছাত্রদের সংঘর্ষ বাধে। ছাত্ররা বিছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা পর আসাদসহ কিছু ছাত্র সংগঠিত হয়ে আবার মিছিল বের করে। মিছিলটি ঢাকা হলের পাশে দিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করে। তখন একজন পুলিশ অফিসার ওই মিছিলের নেতৃত্ব প্রদানকারী আসাদকে বনেট দিয়ে আহত করে রাস্তায় ফেলে দেন। কিছুক্ষণ পর আহত আসাদকে খুব কাছে থেকে পুলিশ গুলি করে। পুলিশের গুলিতে ঢাকা মেডিকেলের বর্তমান জরুরী বিভাগের সামনে আসাদ শহীদ হন।


আসাদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার সাথে সাথে আসাদের বড় ভাই ডা. এন. এম. মুরশীদুজ্জামান আসাদকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। হাসপাতালের সব ডাক্তাদের সম্মিলিত চেষ্টাতেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। পিস্তলের গুলি আসাদের হৃদপিন্ডের বাম নিলয় বিদীর্ণ করে। শহীদ হন আসাদ।
এরপর শুরু হয় আসাদের লাশ নিয়ে রাষ্ট্রের ছল-চাতুরীর রাজনীতি। ময়নাতদন্তের পর সন্ধ্যায় লাশ নিয়ে মিছিলের উদ্যোগ নেয় ছাত্ররা। ঢাকার জেলা প্রশাসক ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে হাসপাতালে সশস্ত্র পুলিশ ও ইপিআর ঢুকে পড়ে। পুলিশ-ইপিআর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে লাশের খোঁজে। পুলিশ জানায়- আসাদের ভাইয়ের অনুরোধেই তারা লাশের খোঁজ করছেন। অন্যদিকে ছাত্ররা শহীদ আসাদের লাশ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে লুকিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে শহীদ আসাদের লাশ আসাদের বড় ভাই নিয়ে যান। ছাত্ররা তার আগেই রক্তমাখা শার্ট নিয়ে বের করেন মিছিল। জনরোষে ফেটে পড়ে মিছিল, এই মিছিলে রাষ্ট্র পক্ষ কোন বাধা দেওয়ার সাহস পায়নি।


পরের দিন ২১ জানুয়ারী নিজ গ্রাম ধানুয়ায় পারিবারিক গোরস্থানে আসাদকে সমাহিত করা হয়। সেদিন ঢাকায় আবারও শুরু হয়ে যায় উত্তাল আন্দোলন, সকাল সন্ধ্যা স্বতঃস্ফুর্তভাবে এক অবিস্মরনীয় হরতাল পালিত হয়। আসাদের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে লক্ষাধিক লোক নগ্নপদে এক অভূতপূর্ব মৌন মিছিল বের করে রাজপথ প্রদক্ষিণ করে। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ২২, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি এই তিন দিন “শোক কাল” হিসেবে ঘোষণা করে। আসাদের শহীদ হওয়ার ঘটনা পাক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণবিষ্ফোরনে পরিণত হয়। প্রতিদিন হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসুচী পালিত হয়। ২৪ তারিখে কর্মসূচীর শেষ দিনে সমগ্র প্রদেশব্যাপী সফল হরতাল পালিত হয়। রাজপথে লক্ষ লক্ষ জনতার রোষ তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। এই দুর্দমনীয় গণ-আন্দোলন একটি স্বতঃস্ফুর্ত গণ-অভ্যুত্থানে রূপ হয়। ফলে কথিত লৌহ মানব আইয়ুব শাহীর পতন হয়, আসাদের মৃত্যুর মাত্র দুই মাসের মধ্যে আইয়ুব খানের এক দশকের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। আসাদের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী সামরিক জান্তা আইয়ুবের নামানুসারে তৈরী আইয়ুব গেইট’কে আসাদ গেইট এবং আইয়ুব এভিনিউ’কে আসাদ এভিনিউ নামকরণ করেন। যা আজো বীর অগ্রনায়ক আসাদের স্মৃতিকে বহন করে চলেছে। দেশবাসী ১৯৭০-এর প্রথম আসাদ-দিবসে শহীদ মিনারের অনতিদূরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের পাশে মূল ঘটনাস্থলে “ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের স্মারক ও অমর আসাদ” স্মৃতি স্তম্ভ স্থাপন করে। এদিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়েঅজন করে।
শরীফ ইকবাল রাসেল - নরসিংদী প্রতিনিধি

ONN TV
payoneer
নিউজ আর্কাইভ
সর্বাধিক পঠিত
সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ ব্যাপী ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

সাতক্ষীরা  প্রতিনিধি: সখিপুর ইউনিয়নের সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ দিনব্যাপী ক্রীড়া, কুইজ, রচনা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বে-সরকারি প্রতিষ্ঠা

জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ
জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে গনসংযোগ করেছেন জেলা পরিষদের সদস্য প্রার্থী সোনিয়া পারভীন শাপলা। সোমবার

দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নবগত নির্বাহী অফিসারের সাথে ফুলের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়
 শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলা নবগত নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নের্তৃবৃন্দরা। সোমবার দুপুরে নির

দেবহাটায় ছাত্রলীগের ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট
৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট

মীর খায়রুল আলম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দেবহাটায় ছাত্রলীগের উদ্যেগে ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার গোপাখালি মাঠে দে

দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন
দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন

মীর খায়রুল আলম:: দেবহাটা উপজেলাকে মডেল করতে ছুটির দিনে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল-আসাদ। শুক্রবা

শিরোনাম