TURNER IT SOLUTION

রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ || সময়- ১২:৪০ am

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include() [function.include]: Failed opening 'usbd/config/connect2.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: mysql_num_rows() expects parameter 1 to be resource, boolean given in /home/onn24/public_html/details.php on line 84

চৌদ্দগ্রামে বাসে হামলা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকের কাজ - এইচ টি ইমাম

  • চৌদ্দগ্রামে বাসে হামলা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকের কাজ - এইচ টি ইমাম

    চৌদ্দগ্রামে বাসে হামলা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকের কাজ - এইচ টি ইমাম

ডক্টর এম মুজিবুর রহমানঃ সারাদশে এখন পুলিশের পোয়াবারো। বিরোধী মতের বিশেষ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে বিভিন্ন থানায় দায়ের করা হামলা মামলার জের ধরে চলছে পুলিশের অবাধ বানিজ্য।


২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বিরোধী দলের আন্দোলন চলাকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি বাসে পেট্রোল বোমা হামলা হয়। হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয় সাতজন। ওই ঘটনা নিয়ে এখন চলছে পুলিশের বানিজ্য। ওই হামলায় কমপক্ষে আরো ২৪জন অগ্নিদগ্ধ হয়। ওই নৃশংস ঘটনার পরদিন ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে এক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনাটিকে ‘নিখুঁত’ও ‘রীতিমতো মিলিটারি অপারেশন ’হিসেবে এ সময় আখ্যায়িত করেন তিনি।


তিনি বলেন ‘আক্রমণ দেখে মনে হয়, এটি মিলিটারি অপারেশন’। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকেরা নাকি, রেকি করে এসব নাশকতা চালাচ্ছে। পরবর্তীতে এইচ টি ইমামের বক্তব্য প্রমানিত হয়েছে, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়ার মন্তব্যে। আসাদুজ্জামান মিয়া একটি সভায় নিজেই স্বিকার করেছেন, বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছে পুলিশ।
তিনি বলেন, যৌথ-বাহিনী জানে, মন্ত্রীরা জানে, ব্যাবসায়ীরা জানে, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা জানে, পুলিশ সোসাইটির লোক জানে, এই যে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল আছে তারা জানে যে সরকার টিকিয়ে রাখছে পুলিশ। তিনি আরো বলেন, ২০১৩ সালের আন্দোলন দমাইছে পুলিশ, ২০১৪ সালের ইলেকশনও করাইছে পুলিশ, গত তিন মাসে আগুন ধরাইছে পুলিশ। ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যটি সামাজিক মিডিয়ার পাশাপাশি ৬ মে ২০১৫ অনলাইন পোর্টালসহ বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত হওয়ার পরে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্ঠি করে।


সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোঃ আখতারজ্জামান চৌদ্দগ্রামে বাসে হামলা নিয়ে তখন একটি টেলিভিশন টকশোতে কয়েকটি প্রশ্নের অবতারণা করে তাঁর বিশ্লেষণ তুল ধরেন । তিনি বলেন, ''দ্রতগামী একটি বাসের পিছন থেকে ঢিল মেরে পেট্রোল বোমা বাসের ভিতরে ফেলা যাবে কিনা? পুলিশ সুপারের টিভিতে দেয়া ভাষ্য মতে তখন নাকি বাসটির গতি ছিল ১১০ কিলোমিটার।
একশ দশ কিলোমিটার চলন্ত বাসের পিছন থেকে পেট্রোল বোমা বাসের ভিতরে ফেলতে হলে বোমা ছোড়াকারীর হাতের শক্তি কত হবে এবং সেই শক্তি কোন স্বাভাবিক মানুষের হাতে আছে সেটিও বিশ্বাস যোগ্য কিনা তাও কিন্তু আমাদের ভাবা উচিত, না হলে আমাদের জ্ঞ্যানবুদ্ধি সম্বন্ধেও মানুষের মনে ভুল ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার এলাকায় দ্রতগামী চলন্ত বাসে পেট্রোল বোমাটি ছোঁড়া যে কোন পেশাদার বাহিনীর কাজ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই পেট্রোল বোমাটি অবশ্যই কোন অস্ত্র দ্বারা ছোড়া হয়েছে বলে অনেকেই ইতিমধ্যে বলা বলি করছে।


আন্দোলনকারীরা বা তাদের কোন পক্ষ শক্তির পক্ষে এই রকম দ্রতগামী বাসের পিছন থেকে পেট্রোল বোমা মারার যোগ্যতা কখনই নাই। এই পেট্রোল বোমাটি সম্ভবত সীমান্তের বাইরের কোন তৃতীয় শক্তির কাজ। সম্প্রতি একটি বিদেশী দূতাবাসের কর্মচারীকে বাংলাদেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, এমন আরও বিদেশী এখনও রয়ে গেছে কিনা সে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। তাই চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার এলাকায় দ্রতগামী চলন্ত বাসে পেট্রোল বোমাটি ছোঁড়া্র ব্যাপারে বিচার বিভাগ ও রাজনৈতিক দলের যৌথ সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। সেই সঙ্গে এই হীন ঘটনার তীব্র নিব্দা প্রকাশ করছি।


মামলাবাজেরা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য প্রতিপক্ষের বাড়ীর গোয়ালঘরে বা মূল ঘরের পাশে লাগোয়া ছোট রান্নাঘরে বা অনেক সময় খড়ের পালায় আগুন দিয়ে প্রতিপক্ষকে পুলিশি হয়রানীতে ফেলার অনেক উদাহরণ আইন আদালতে আছে। কেন জানি অনেকের মনে হচ্ছে বিএনপিকে ঘায়েল করার জন্য এই ধরণের হীন প্রচেষ্টা অন্য কোন তৃতীয় পক্ষ নিচ্ছে কিনা ! দেশের চলমান হরতাল অবরোধের মধ্যে ষড়যন্ত্রের উস্তাদ এক নেতার ভারত সফর খুবই ইঙ্গিতবাহী বলে অনেকের কাছে মনে হচ্ছে।


মাঠে তৃতীয় পক্ষ তৎপর। তারা আন্দোলনকে সন্ত্রাসের দিকে নিয়ে সরকারকে হার্ড লাইনে ঠেলে দিয়ে এক ঢিলে দুই পাখী মারার গভীর ষড়যন্ত্রে মেতেছে। কোন একটি অদৃশ্য শক্তি খুব ঠাণ্ডা মাথায় সরকারকে গভীর ষড়যন্ত্রের জালে ফাঁশিয়ে দেয়ার কূটকৌশলের আলামত দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে সরকারকে খুব সূক্ষ্মভাবে আস্তে আস্তে পয়েন্ট অফ নো রিটার্নের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।''
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়ার স্বীকারোক্তির পাশাপাশি গত বছর ফেব্রুয়ারির একই সময়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় যে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ছোনাব এলাকায় বোমা বানাতে গিয়ে ইউনিয়ন ছাত্র লীগের চার নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের কেসকি মোড় এলাকা হতে পেট্রোল বোমাসহ দুই যুবলীগ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। গতবছর ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার চট্রগ্রামে পেট্রোল বোমা ককটেল ও দেশীয় অস্ত্রসহ ৬ ব্যক্তিকে আটক করেছে বিজিবি। তারা আওয়ামী লীগ করে বলে জানিয়েছে। গতবছর ৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের একটি অফিসে ১০টি পেট্রোলবোমা পাওয়া গেছে। গাড়িতে বাসে বোমাবাজির জন্য হাতে-নাতে ধরা পড়ার ঘটনা আরও ঘটেছে। ধরা পড়া ঘটনার সংখ্যা যদি এটা হয়, ধরা না পড়ার সংখ্যা নিশ্চয় অনেক বেশি হবে।


এসব ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, পেট্রোল বোমা বানানো, মওজুদ এবং সেই বোমা দিয়ে হামলা করার সাথে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ব্যাপকভাবে জড়িত। তারা এভাবে বোমা ছুঁড়ে তার দায়ভার বিএনপি এবং  বিরোধীমতেরদলেরনেতাকর্মীর ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে এবং এক ধরনের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া সেই উদ্দেশ্যমূলক অপবাদ ফলাও করে প্রচার করছে। যেহেতু  অধিকাংশ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া আওয়ামী ঘরাণার অনুগত তাই এই একচেটিয়া ও এক তরফা প্রচারণা অনেক ক্ষেত্রেই জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। কিন্তু উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর ষড়যন্ত্র হাতে-নাতেই ধরা পড়ে যাচ্ছে।


চৌদ্দগ্রামের বাসে হামলার ঘটনার সময়ে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাঁর গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন । ঐ সময় কার্যালয়ের দোতলায় নিজের অফিস ঘর ও পাশের একটি কক্ষেই সীমাবদ্ধ ছিল তাঁর চলাচল। দীর্ঘ দিন পুলিশের ট্রাক, বালুর ট্রাক, ময়লার ট্রাক ও জলকামানসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেষ্টনী তৈরি করে তাঁর কার্যালয়কে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ঐ সময়ে মালয়েশিয়ায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকো ইন্তেকাল করেন। এই শোক কাটিয়ে উঠতে-না উঠতেই তাঁর কার্যালয়ের বিদ্যুৎ, টেলিফোন, টিভি, ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ ছিন্ন করা হয়। প্রায় ১ দিন পর বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হলেও অন্যান্য সংযোগ ছিল বিচ্ছিন্ন । ফলে একেবারে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। এমতাবস্থায়ও জবরদখলকারী সরকারের বিভন্ন নেতা মন্ত্রীরা বেগম খালেদা জিয়াকে সরাসরি মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন, যা দেশের মিডিয়ার কল্যানে সমগ্র বিশ্ব দেখেছে । এর পরেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে মামলা দায়ের করে হামলা ও মামলাবাজ সরকারের পুলিশ।


এটা কোনভাবেই মাথায় আসে না সকল প্রকার যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন একজন নেত্রীর পক্ষে কি করে নাশকতার হুকুম দেয়া সম্ভব ?  ঐ সময়ে সাংবাদিকরা পর্যন্ত যেখানে বেগম জিয়ার সাথে দেখা করতে পারেন নাই এমনকি তাঁর অফিসে বিশ্বের কোনো দেশের খবর পর্যন্ত দেখার সুযোগ ছিল না, সেখানে তিনি হুকুমের আসামী হোন কি করে? আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও দেশের মিডিয়াকে ছলে বলে কৌশলে নিয়ন্ত্রনে রাখার পরেও বিভিন্ন জায়গায় নাশকতার সাথে বরং আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজন জড়িত থাকার খবর প্রতিদিনই তখন প্রকাশিত হচ্ছিল । এসব ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন এজেন্টের কথাতো আর সকলের জানা। সবচেয়ে বড় বিষয় এসব নাশকতার সুবিধাভোগী করা।এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেই নাশকতাকারীদের আসল  হুকুমদাতা সহজেই বের করা সম্ভব। মজার ব্যাপার হলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা নাশকতাকারীদের একজনকেও হাতে নাতে ধরতে পারলো না কেনো ? পারবে কি করে, সর্ষের মধ্যেই যে ভূত ! শেষের দিকে গ্রেফতার করার নামে বিরোধী মতের নেতা কর্মীদের হয়রানী বৈ কিছু নয়।    


চৌদ্দগ্রামের স্থানীয় পত্রিকা ও প্রত্যক্ষদর্শীর মাধ্যমে জানা যায় ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারী সোমবার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে চৌদ্দগ্রাম থানার দক্ষিণ পাশের পারাবত রেসিডেন্সিয়াল স্কুল থেকে মাসুদ করিম ও ইকবাল হোসেন জাকির নামের দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ । একই দিন বিকেল ২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিয়াবাজার এলাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবি ও অবরোধ সফল করতে মিছিল বের করে ছাত্র শিবিররের নেতা কর্মীরা । মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে উপজেলা উত্তর শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি বোরহার উদ্দিন (পাশ্ববর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলায় বাড়ি), আবু ইউসুফ ও আবদুল আলী সিএনজি অটোরিকশায় উঠেন । খবর পেয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারেকের নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী তাদেরকে প্রকাশ্য দিবালোকে মারধর করে আহত করে। কিছুক্ষণ পর থানা পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের তিনজনকে পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। রাত সাড়ে বারটার পরে চৌদ্দগ্রাম বাজারের বাসা থেকে সাংবাদিক এমদাদ উল্যাহকে ওসি সাহেব খবর দিয়েছেন বলে দুইটি কম্পিউটারসহ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় ।


এরপর ২ ফেব্রুয়ারী সোমবার রাত তিনটার পরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় কে বা কারা কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করলে ঘটনাস্থলেই সাত জন যাত্রী নিহত হন । কিন্তু সেই ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে ঘটনার আগে আটককৃত সকলকে এঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামী করা হয়। সাংবাদিক এমদাদ উল্যাহ, স্কুল শিক্ষক মাসুদ করিম, ইকবাল হোসেন জাকিরকে ৪ ফেব্র“য়ারী বুধবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ । অপরদিকে ছাত্রশিবির সভাপতি বোরহান উদ্দিন, ছাত্রনেতা আবু ইউসুফকে ৩ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার ভোরে চোখ বেধে ডিবি পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশের নেতৃত্বে পুলিশের পাশ্ববর্তী সদর দক্ষিণ উপজেলার রেলক্রসিং এলাকায় ওই তিনজনসহ আবু সুফিয়ান নামের এক যুবককে পায়ে গুলি করে। সেখানে মহাসড়কে চলমান অনেকগুলো গাড়ি থামিয়ে লোকজনকে জড়ো করে তাদের সামনে অস্ত্র রেখে পুলিশ বলে, ‘ওরা নাশকতা করার চেষ্টাকালে আমাদের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে তারা আহত হয়েছে।' পরে তাদের সকলকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানের ঘটনায় পুলিশ অস্ত্র আইনে মামলা করে। তাদের দুইজন এখনও জেলহাজতে রয়েছেন ।


ঘটনার দিন থেকে শুরু করে যুবদল ও জাসাসের কেন্দ্রীয় সদস্য এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা শিল্পপতি কামরুল হুদা অসুস্থতার কারণে একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলেন। এছাড়া চৌদ্দগ্রামের সাবেক এমপি জামায়াত নেতা ডাঃ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের  ছিলেন ঢাকায়।
 

কিন্তু পুলিশ আলমগীর নামের এক দোকানদারকে উজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বানিয়ে বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়ে ও ভয় দেখিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করে। পরবর্তীতে তারা আদালতে গিয়ে স্বীকারোক্তিতে নারাজি দেন। একইভাবে মোতালেব হোসেন নামের এক স্টুডিও ব্যবসায়ী থেকেও ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি নেয়া হয়। চৌদ্দগ্রামের আন্দোলন সংগ্রামে সকল সময়ে সোচ্চার ও সক্রিয় বিএনপির নেতাকর্মী ও বিরোধীমতের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি পুলিশের কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকেও হয়রানী করছে বলেও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।
তবে বিশ্বস্ত সুত্রমতে বিএনপিকে ফাঁসাতে আর আওয়ামীলীগকে বাঁচাতে এই মামলা নিয়ে পুলিশ এখন বিরাট ঘেরাকলে। চৌদ্দগ্রামে বাসে বোমা হামলার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এইচ টি ইমামের বক্তব্যের সত্যতা খোঁজে পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। কারণ প্রশিক্ষিত লোক ছাড়া একশ দশ কিলোমিটারের দ্রুতগামী চলন্ত বাসের পিছন থেকে পেট্রোল বোমা বাসের ভিতরে ফেলা মোটেই সম্ভব নয়।তাই সত্য ঘটনা আড়াল করতে বিএনপির নেতাকর্মী বিশেষ করে যারা আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় তাদেরকে বাছাই করে চৌদ্দগ্রামের মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে।
এদিকে দেশের একজন স্বনামধন্য গার্মেন্টস ব্যবসায়ী শিল্পপতি কামরুল হুদা একই বছরের ১০ মে ব্যবসায়ীক কাজে বিদেশ যাওয়ার পথে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় । দীর্ঘদিন জেল খেটে তিনি একই বছরের গত ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে জামিনে মুক্তি পান।


এবিষয়ে শিল্পপতি কামরুল হুদা বলেন, ‘দেশের মানুষের উপকারের জন্যই রাজনীতি করি। জ্বালাও, পোড়াও আর মানুষ মারার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। জগমোহনপুরে ঘটনার আগে ও পরে আমি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলাম। আমি তখন চৌদ্দগ্রামেই অবস্থান করিনি। কিন্তু আন্দোলনসংগ্রামেসক্রিয়থাকিবলেইরাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে আমাকে চৌদ্দগ্রাম জগমোহনপুরের ঘটনায় আসামী করা হয়েছে।' তিনি চৌদ্দগ্রামের ঘটনার বিভাগীয় সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া ও অহেতুকভাবে বিরোধী মতের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হয়রানী বন্ধের দাবি জানান।    


দেশের সচেতন বিবেকবান মানুষ মাত্রই জানেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আহবান জানানোর পর বেগম খালেদা জিয়া নিজে যেখানে ছিলেন অবরুদ্ধ। যেখানেসকল প্রকার যোগাযোগ থেকে তিনিছিলেন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন সেখানে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে তিনি কি করে নাশকতার হুকুম দিলেন? বেগম জিয়াকে মেরে ফেলার প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে তাঁর নিজের জীবন যেখানে বিপন্ন করা হলো, সেখানে তিনিই আবার হত্যা মামলার হুকুমের আসামী ! তবে হুকুমের আসামী হিসেবে কারো বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি বৈঠার হত্যাকান্ডের হুকুম দাতাকে শনাক্ত করে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাতে না পারলে এর দ্বায় থেকে জাতি কখনো মুক্তি পাব না।


অতীত ইতিহাসের ঘটনা বাদ দিয়ে শুধু নিকট অতীতের ঘটনা, রাজনৈতিক উপদেষ্টার মন্তব্য, পুলিশ কমিশনারের স্বীকারোক্তি সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়  সন্ত্রাসী সংগঠনের কথা বলে থু থু উপরের দিকে দিলে নিজের গায়েই পড়ার সম্ভাবনা বেশী। বিরোধীমতেরনেতাকর্মীকেঅহেতুকহয়রানিনাকরেবরং দেশের জনগণের শান্তি নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার স্বার্থে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দেশের বর্তমান সমস্যার সমাধান জরুরি। আর সরকারে যারা থাকেন তাদেরকেই এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হয়। না হয় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের যাত্রী আমরা কেউই সুখে শান্তিতে বসবাস করা দূরের কথা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য রেখে যাব চিন্তা চেতনায় একটা খন্ডিত ও অনগ্রসর বাংলাদেশ। যা স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে কারো কাম্য হতে পারে না।
মন্তব্য: প্রশাসন তুমি যখন যার তখন তার ! এই প্রশাসন কোনো দলের বা গোষ্টির হীণস্বার্থে ব্যাবহৃত না হয়ে জনগণের হবে কবে ।
 
লেখক: শিক্ষক ও গবেষক, সাবেক সহকারী অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

ONN TV
payoneer
নিউজ আর্কাইভ
সর্বাধিক পঠিত
সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ ব্যাপী ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

সাতক্ষীরা  প্রতিনিধি: সখিপুর ইউনিয়নের সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ দিনব্যাপী ক্রীড়া, কুইজ, রচনা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বে-সরকারি প্রতিষ্ঠা

জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ
জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে গনসংযোগ করেছেন জেলা পরিষদের সদস্য প্রার্থী সোনিয়া পারভীন শাপলা। সোমবার

দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নবগত নির্বাহী অফিসারের সাথে ফুলের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়
 শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলা নবগত নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নের্তৃবৃন্দরা। সোমবার দুপুরে নির

দেবহাটায় ছাত্রলীগের ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট
৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট

মীর খায়রুল আলম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দেবহাটায় ছাত্রলীগের উদ্যেগে ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার গোপাখালি মাঠে দে

দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন
দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন

মীর খায়রুল আলম:: দেবহাটা উপজেলাকে মডেল করতে ছুটির দিনে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল-আসাদ। শুক্রবা

শিরোনাম