TURNER IT SOLUTION

মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ৭:১৬ pm

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include() [function.include]: Failed opening 'usbd/config/connect2.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: mysql_num_rows() expects parameter 1 to be resource, boolean given in /home/onn24/public_html/details.php on line 84

১৪ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস অন্য কিছু নয়

  • ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস অন্য কিছু নয়

    ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস অন্য কিছু নয়

সূফি বরষণ : ১৪ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৩ সালের আজকের এই দিনে কলা ভবন থেকে শিক্ষা ভবন অভিমুখে ছাত্রদের মিছিল... স্লোগানে মিছিলে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়... সামরিক শাসন মানি না... মজিদ খানের শিক্ষানীতি বাতিল কর... করতে হবে... হঠাৎ করেই গুলিতে প্রকম্পিত চারিদিক... মিছিলে পুলিশে ট্রাক তুলে দিয়ে শুরু হয় বর্বরতার এক ভয়াল নিদর্শন।


স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের হিংস্র পুলিশ বাহিনীর উন্মত্ততায় একে এক লুটিয়ে পরে জাফর, জয়নাল, দিপালী সাহা। আহতদের আহাজারীত হাসপাতাল গুলোতে তৈরী হয় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের... কলাভবনেও গুলি টিয়ার সেলের আঘাতে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর নৃশংস হামলা। গ্রেফতার হাজার হাজার ছাত্র-জনতা। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা.. কারফিউ জারি। ১৫ই ফেব্রুয়ারী সারাদেশে হরতাল। ওইদিন পুলিশের গুলতে জবি ছাত্র আইয়ুব ও কাঞ্চন। বছর দুই পর এই মধ্য ফেব্রুয়ারীতেই হত্যা করা হয় মুহসীন হলের ছাত্রনেতা রাউফুন বসুনিয়াকে...


১৪ ফেব্রুয়ারী, স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে পালিত হয় স্বৈারাচার প্রতিরোধ দিবস। ১৯৮২ সালের ১৪ মার্চ, সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখল করেন স্বৈরাচার এরশাদ সরকার। সামরিক আইন জারি করে মৌলিক অধিকারের ভূ-লুণ্ঠন এবং বিরোধী দলীয় কর্মী ধরপাকড়, নির্যাতনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এরশাদ আমল। প্রথম থেকেই তিনি ইসলাম ধর্মকে অত্যাচারের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। এরশাদের শাসনামলে ২১ ফেব্রুয়ারীর বিভিন্ন অনুষ্ঠান ইসলাম পরিপণ্থী বলে ঘোষনা করা হয় এবং আল্পনা অংকনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন তিনি!


সেই সময় ছাত্র আন্দোলনের পালে হাওয়া লাগায় তৎকালীন আমলে প্রণিত “মজিদ খান শিক্ষানীতি”। সাম্প্রদায়িকতা, শিক্ষা বাণিজ্যিকীকরণ আর শিক্ষা সংকোচন-কে ভিত্তি ধরে প্রণিত এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব ও শিক্ষার ব্যয়ভার যারা ৫০% বহন করতে পারবে তাদের রেজাল্ট খারাপ হলেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়- এই শিক্ষানীতিতে। মোদ্দাকথা, শিক্ষাকে পণ্যে রূপান্তরিত করার হীন প্রয়াস থাকে এই শিক্ষানীতিতে!


গণবিরোধী এই শিক্ষানীতির প্রতিবাদে, তিলে তিলে গড়ে ওঠা ছাত্র আন্দোলন ফুঁসে ওঠে ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী। মধুর ক্যান্টিনে সকল ছাত্র সংগঠনের সম্মিলিত রূপ, সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ -এর উত্থান ঘটে। একই ধারার অবৈতনিক বৈষম্যহীন সেক্যুলার শিক্ষানীতির দাবিতে ‘৮৩ এর ১৪ ফেব্রুয়ারী বিশাল মিছিলে শামিল হয় শত শত ছাত্র। মিছিলের অগ্রভাগে ছিল ছাত্রীবৃন্দ। হাইকোর্টের গেইট এবং কার্জন হল সংলগ্ন এলাকায় কাঁটাতারের সামনে এসে ছাত্রীরা বসে পড়ে; নেতৃবৃন্দ কাঁটাতারের উপর দাঁড়িয়ে জানাতে থাকে বিক্ষোভ। অতর্কিত পুলিশী হামলার শিকার হয় ছাত্র জনতা। শিক্ষার্থীদের উপর গরম পানি ছিঁটিয়ে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। নিহত হয় জয়নাল, দিপালীসহ অনেকে। শিশু একাডেমীর অনুষ্ঠানে যোগদান দিতে গিয়ে নিহত হয় শিশু দিপালী, তাঁর লাশ গুম করে ফেলে পুলিশ। জয়নালের গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে তবে শান্ত হয় পশুরা। ১৫ তারিখ আন্দোলন আরো ছড়িয়ে পড়লে নির্যাতনের পাল্লা বাড়তে থাকে। চট্টগ্রামে প্রতিবাদী কাঞ্চন নিহত হয় ১৫ তারিখ! শত শত ছাত্রকে নির্বিচারে গ্রেফতার করা হয়, অত্যাচার চালানো হয়। তবু সেই মহান আন্দোলনের ফল আসে,পতন ঘটে স্বৈরাচার সরকারের।


একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক ভূখণ্ডের জন্য এ জনপদের মানুষ বারবার অকাতরে প্রাণ দিয়েছে। যুগে যুগে সামরিক-বেসামরিক ছদ্মবেশে স্বৈরাচারীরা ক্ষমতা দখল করেছে। জনগণ প্রতিবাদ করলে জুটেছে বেয়নেট, বুট, গুলি, টিয়ারশেল। তবে ছাত্ররা প্রথম থেকেই এরশাদের শাসনক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে বসেন। শুরু হয় প্রতিরোধ আন্দোলন। স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্রদের প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রথম শহীদের নাম জয়নাল দিপালী কাঞ্চন। এরপর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে। পশ্চিম থেকে আগত ভ্যালেন্টাইনের জোয়ারে ভেসে গেছে রক্তের অক্ষরে লেখা, এ প্রজন্ম ভুলে যাচ্ছে সেই সব শহীদের নাম। ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির সেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই 'লেখা।


১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এক রক্তপাতহীন অভুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। রাজনৈতিক দলগুলো এরশাদের এভাবে ক্ষমতা দখলকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা না করে অনেকটাই নীরবে মিলিটারি স্বৈরশাসন মেনে নিতে বাধ্য হয়। রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নিলেও ছাত্ররা মেনে নেননি এই সামরিক অভ্যুত্থান। সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্বৈরাচার এরশাদ ক্ষমতায় ছিল আট বছর ২৫৬ দিন। এ সময় দেশের হাজার হাজার মানুষ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে কারাবরণ করেছে। হত্যা-গুমের শিকার হয়েছে অসংখ্য নারী-পুরুষ। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বিশেষত ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্র নিহত হওয়ার পর থেকেই দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে ওঠে।


পাকিস্তান পর্বে পূর্ববাংলার ছাত্রদের প্রধান দাবি ছিল একটি অবৈতনিক একই ধারার বৈষম্যহীন শিক্ষানীতি। এ সময় পূর্ব পাকিস্তান সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ দেশের আপামর জনগণের উদ্দেশে ১১ দফা প্রণয়ন করেছিল। এরশাদ ক্ষমতায় আসার পরপরই তাঁর শিক্ষামন্ত্রী মজিদ খান নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেন। এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতেই ইসলাম ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। শিক্ষানীতিতেও সে প্রতিফলন ঘটে। একই সঙ্গে শিক্ষার ব্যাপক বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়। ছাত্ররা এ শিক্ষানীতির ব্যাপক বিরোধিতা করেন। ১৭ সেপ্টেম্বরের শিক্ষা দিবসে এই শিক্ষানীতি বাতিল করার পক্ষে ছাত্র সংগঠনগুলো একমত হয়।


১৯৮২ সালের ২১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে গণসাক্ষরতা অভিযান চলে। ছাত্র সংগ্রামের নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মজিদ খান শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। ছাত্রদের এই সংগ্রামকে প্রতিরোধ করতে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি খন্দকার মোহাম্মদ ফারুককে গ্রেপ্তার করলে ছাত্ররা আরো ফুঁসে ওঠেন। তাঁর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি সারা দেশে ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। এবার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি হাতে নেয়। দিনটি ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩। কে জানত বসন্তের আগুনরাঙা রঙের সঙ্গে মিশে যাবে সংগ্রামী মানুষের রক্ত।


ভালোবাসার রং কী? প্রশ্ন একটি, উত্তর ভিন্ন ভিন্ন। রক্তের স্রোত, বুট, টিয়ারশেল আর গুলির তীব্র ঝাঁজালো বারুদের গন্ধ এমন ভাবে ভালোবেসে সবাইকে ঋণী করে যাবে, তা মিছিলের কেউ বুঝতে পারেনি। সেদিন মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রনেতা মোস্তাক হোসেনের বর্ণনা মতে, ‘১৪ ফেব্রুয়ারি আরো সুশৃঙ্খল, আরো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে ছাত্ররা কর্মসূচিতে যোগ দেন। মিছিলের প্রথমে শতাধিক ছাত্রীর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখ করার মতো। খুবই শান্তিপূর্ণ মিছিল ছিল, উৎসবের মতো অনেকটা। ব্যারিকেডের সামনে যখন মিছিল যায় হাইকোর্টের গেট ও কার্জন হল-সংলগ্ন এলাকায়, তখন মেয়েরা ব্যারিকেডের সামনে বসে পড়েন। নেতারা তারকাঁটার ওপর উঠে বক্তৃতা দিতে শুরু করেন। মিছিলটি ছিল হাইকোর্টের গেট থেকে বাংলা একাডেমী পর্যন্ত। কিন্তু কোনো উসকানি ছাড়াই তারকাঁটার একদিক কিছুটা সরিয়ে রায়ট কার ঢুকিয়ে রঙিন গরম পানি ছিটাতে শুরু করে পুলিশ। এরপর ভেতরে ঢুকে বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে। সাধারণ ছাত্ররা তখন এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করে পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। পুলিশ তখন ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন জয়নাল। সেদিন জয়নালকে গুলিবিদ্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি, তাঁর শরীর বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে পুলিশ। বেয়নেট ফলা আর জয়নালের শরীর থেকে চুইয়েপড়া রক্ত বাংলার পথ-প্রান্তর ভাসিয়ে দেয়। শুধু জয়নাল নয়, ছাত্রদের ওপর পুলিশি তাণ্ডবের সময় শিশু একাডেমীতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা দিপালী নামের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। তবে দিপালীর লাশ পুলিশ গুম করে ফেলে। জয়নাল পড়েছিলেন কার্জন হলের মধ্যে। তাঁকে ধরে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে যেসব ছাত্র সকালে মিছিলে আসেননি, তাঁরা বিকেলে জয়নালের জানাজায় বটতলায় উপস্থিত হন। হাজার হাজার সাধারণ মানুষও উপস্থিত হয়। তাৎকালীন অনেক জাতীয় নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন।’
পুলিশ সেদিন শুধু হত্যা করেই স্থির থাকেনি, বিকেলে ক্যাম্পাসে একটি যুদ্ধ-পরিস্থিতি তৈরি করে সেনাবাহিনী। তার সঙ্গে যোগ দেয় বিডিআর-পুলিশ। শাহবাগ, টিএসসি চত্বর, কলাভবনের সামনে, নীলক্ষেত, কাঁটাবনের রাস্তা ধরে পুরো অঞ্চল ঘেরাও করে ফেলে তারা। অপরাজেয় বাংলার সমাবেশে পুলিশ অতর্কিত লাঠিচার্জ শুরু করে। এ সময় বহু ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে পুলিশ ছাত্রছাত্রীদের মেরে হাত-পা ভেঙে ট্রাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে তৎকালীন উপাচার্য পদত্যাগ করেন। কলাভবনের ভেতরে ঢুকে পুলিশ ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক যাঁকে পেয়েছে তাঁকেই নির্যাতন করেছে। ওখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খ ম জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে। ওই বিভীষিকাময় দিনের বর্ণনা করেছেন স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্রনেতা মোস্তাক হোসেন, ‘আমরা জয়নালের লাশ লুকিয়ে ফেলেছিলাম মুহসীন হলের ডাইনিংয়ে। লাশের খোঁজে পুলিশ চারুকলায় ঢুকে ছাত্রদের নির্যাতন ও গ্রেপ্তার করে। পুলিশ খুঁজে খুঁজে পোশাকে রঙিন গরম পানির চিহ্ন দেখে দেখে গ্রেপ্তার করে। অবশেষে মুহসীন হলের ডাইনিংয়ে লাশ পাওয়া গেলে অন্যান্য হলে লাশের তল্লাশি বন্ধ করা হয়।’ কিন্তু গ্রেপ্তার করে দুই সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে। সরকারি হিসাব মতে এক হাজার ৩৩১ জন। সবাইকে গ্রেপ্তার করে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় শাহবাগের পুলিশ কন্ট্রোল রুমে। এরপর তাঁদের তুলে দেওয়া হয় আর্মির হাতে। বন্দি ছাত্র-জনতার ওপর চলে প্রথমে পুলিশ ও পরে আর্মির নিষ্ঠুর নির্যাতন। মেয়েদের গ্রেপ্তার করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রবল চাপের কারণে তাঁদের ১৫-১৬ তারিখের মধ্যে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।


আন্দোলনের দুই যুগ পার হতে না-হতেই জনগণের কাছে বিস্মৃতি হতে চলেছে জয়নাল-দিপালীদের নাম। আমি তুমি টাইপের ব্যক্তির ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে স্বৈরাচার-প্রতিরোধ দিবস। ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দিনটিতে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ স্বৈরাচার-প্রতিরোধ দিবস হিসেবেই পালন করে আসছিল। নব্বই-পরবর্তী মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবল জোয়ারে দিন পরিণত হয়েছে বহুজাতিক কম্পানির পণ্য বিক্রির দিন হিসেবে। রক্তের অক্ষরে যাঁরা আমাদের গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়ে গেলেন, তাঁদের জন্য অবহেলা ছাড়া আমরা কিছুই দিতে পারিনি। দিবস উদ্যাপন করি। এ দিনটিতে তাদের স্মরণ না করে সে জায়গায় ভালোবাসা দিবসের একটি বা একাধিক অনুষ্ঠান নিয়ে আসা আমার কাছে খুব দুর্ভাগ্যজনক ও কলঙ্কজনক বলে মনে হয়।


খন্দকার সাখাওয়াত আলী
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকারী
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রতিদিনের অ্যালবামের সংকলক

‘৮৩ সালের একটি আবেগঘন পরিবেশে ঢুকে যাই, ১৪-১৫ ফেব্রুয়ারির আন্দোলনের কথা মনে করলে একটি বিশেষ সময় আমাদের সামনে চলে আসে। আমি তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। রাজনৈতিক সংগঠন করি না। কিন্তু রাজনীতিসচেতন। ঢাকার দিপালী সাহা, জয়নালসহ অনেকে মারা যান। স্বৈরাচারবিরোধী এটিই প্রথম ব্যাপকতর বিদ্রোহ। এর আগে এত বড় বিদ্রোহ আর হয়নি। এর বাঁধভাঙার ঢেউ লাগে চট্টগ্রামে। আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্রাকে করে চলে আসি শহরে। মেডিক্যাল ও অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীরা এলে মিছিল করি। মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ ও ব্যাপকভাবে লাঠিচার্জ করে।
এ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়ই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ি। ১৪ ফেব্রুয়ারির এ আন্দোলন আমাদের জেনারেশনের কাছে একটি আলোকবর্তিকার মতো কাজ করে। একজন সমাজতত্ত্বের ছাত্র হিসেবে, একজন রাজনীতিসচেতন ব্যক্তি হিসেবে আমি চেয়েছি এ আন্দোলনের ইতিহাস ধরে রাখতে। কারণ, ছোটবেলা থেকেই দেখেছি আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক লোকজন ক্ষমতালয়কে কেন্দ্র করে ইতিহাসের বিকৃত রূপায়ণ করে। তাই আমি সত্য বিষয়কে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে সে আন্দোলনের অ্যালবাম তৈরি করি। এ অ্যালবামটি সেই কালকে স্মরণ করিয়ে দেয়।


এই ভাষা আন্দোলনের মাসে ১৪ ফেব্রুয়ারি টিভি চ্যানেলে প্রচার করা হচ্ছে ‘ভালোবাসা’ আর ‘ভাষা’ মিশিয়ে চমৎকার ন্যাকামি সমৃদ্ধ প্রতিবেদন এবং অনুষ্ঠান। ভালোবাসা আমাদের জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা। আমাদের মতো দেশে যেখানে আধা সামন্তীয় সংস্কৃতি বিদ্যমান সেখানে যখন ভালোবাসা দিবসকে অধিক গুরুত্বের সঙ্গে সংস্থাপনের চেষ্টা চলে তখন তা সত্যিই ভাবিয়ে তোলে। এগুলো আমাদের ছাত্র, যুবক ও মেহনিত বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে বিদ্যমান শোষণমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে অন্ধ-বধির-মূক করে রেখে ‘আমি-তুমি’র আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থসর্বস্ব সম্পর্কে বেঁধে রাখার পাঁয়তারা মাত্র। প্রতিবাদের ভাষা ও অর্জনগুলো বিস্মৃত করার কৌশল। সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই পুরুষের অধিকৃত নারী। আজ পর্যন্ত নারী-পুরুষের প্রেম ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা ব্যক্তি মালিকানা দ্বারা প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত অর্থাৎ আজও নারী পুরুষের সম্পর্ক শ্রেণীস্বার্থ দ্বারা পরাধীন। তাই পুরুষতান্ত্রিক এ সমাজে প্রেম নারী-পুরষের পারস্পরিক সমতাকে স্বীকার করে না। ফলে তা নানান বিকৃতির স্বীকার হয়। এ জন্য যতদিন শ্রেণী থাকবে এবং সম্পদের সামাজিকীকরণ হবে না ততদিন নারী-পুরুষের ভালোবাসাও মুক্ত হতে পারবে না। ফলে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের জন্য জনগণের আন্দোলন পক্ষান্তরে প্রেমের পক্ষেই আন্দোলন। যুদ্ধবাজ রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস ২৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমান তরুণ-যুবকদের যুদ্ধে মনোযোগী করতে সব বিয়ে ও বাগদানকে বেআইনি এবং বাতিল ঘোষণা করে। যুদ্ধবাজ সম্রাটের এ নিপীড়নমূলক আইনের বিরুদ্ধে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন-এর সংগ্রাম ছিল স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রাম। অথচ আজ সেই মহান ভ্যালেন্টাইনের প্রেমের সংগ্রামী চেতনা থেকে সংগ্রামটুকু বাদ দিয়ে কেবল ভালোবাসাটুকু নিয়ে শাসকশ্রেণী নিজের কাজেই লাগাচ্ছে। অবশ্যই সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন স্মরণীয়, শ্রদ্ধেয় ও অনুসরণীয়। আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ফেব্রুয়ারি মাসটা আমাদের জাতির জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ১৪ ও ২১ ফেব্রুয়ারি বেদনা এবং গৌরবের এক আশ্চর্য মিশ্র চেতনার জন্ম দেয়। প্রকৃতিতেও বসন্তের সূচনা হয় এ মাসেই। বসন্ত যৌবনের প্রতীক। যৌবনই হলো প্রেম ও বিদ্রোহের শ্রেষ্ঠ জন্মভূমি। প্রেম থেকে সংগ্রামটুকু বাদ দিলে যৌবন আর যৌবন থাকে না, তাকে বলে বার্ধক্য। তাতে নারীর মুক্তি নেই। প্রেমের ধারণা সেখানে অলীক। যখন চারদিকে শোষণ-নিপীড়ন-পরাধীনতার নতুন কৌশল রচনা হচ্ছে তখন সংগ্রামের চেতনাকে ভুলিয়ে দিতে তৎপর আত্মকেন্দ্রিক প্রেমের এ সংস্কৃতি কখনো আমাদের কল্যাণ বয়ে আনবে না। অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কানসাট, ফুলবাড়ি, রূপগঞ্জে গণহত্যায় ক্ষরিত রক্ত এখনো শুকায়নি। স্বৈরাচারী এরশাদের পতনের পর এখন সংসদীয় উপায়ে জনগণের উপর শোষণমূলক ব্যবস্থা বজায় রেখেছে এবং রাখছে। জনগণের ভাত-কাপড় নিশ্চিত না করে, প্রকৃত ক্ষমতার মালিকানা না দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার বলতে কেবল ভোট দেওয়াকেই শিখিয়েছে। ‘টেকসই উন্নয়ন আর প্রবৃদ্ধি’র ধারণায় সাম্রাজ্যবাদের সেবার অর্থনীতি কায়েম করেছে আর ‘সুশাসন’এর নামে সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে ব্যাপক জনগণের উপর কায়েম করেছে স্বৈরাচারি ব্যবস্থা। সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে এখন ক্ষমতায় আছে আওয়ামী মহাজোট সরকার। দ্রব্যমূল্যের ধারাবাহিক উর্ধ্বগতিতে কেবল গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এই ৯ মাসেই দ্রব্যমূল্য বেড়েছে ১৬%। গণবিরোধী স্বাস্থ্যনীতি, শিক্ষানীতি প্রণয়ন, শ্রমিকদের জন্য অন্যায্য মজুরি কাঠামো, শিল্প-পুলিশ গঠন, ভারতকে ট্রানজিট প্রদান ও দেশবিরোধী হাসিনা-মনেোহন চুক্তি, সাম্রাজ্যবাদের হাতে তেল-গ্যাস-কয়লাসহ খনিজ সম্পদ তুলে দিতে কয়লানীতি, মডেল পিএসসি ও জ্বালানি নিরাপত্তা বিল পাশ করেছে। বন্দর ও গভীর সমুদ্র সাম্রাজ্যবাদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। সমাজের সকল স্তরে অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। শ্রমিক হত্যা ও নির্যাতন, ছাত্র হত্যা, পাহাড়িসহ বিভিন্ন জাতিসত্ত্বার ওপর দমন, আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনগুলোর দৌরাত্ম সীমা ছাড়িয়েছে। চলছে নারী ও শিশু নির্যাতন, ইভ টিজিং, শিক্ষক হত্যা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দোহাই দিয়ে চলছে লুটপাট আর দেশ বিক্রির মহোৎসব। এসবের বিপরীতে জনগণও নিরন্তর সংগ্রাম করে চলেছে। শিল্পাঞ্চলে মজুরি বৃদ্ধি ও শ্রমিক হত্যা-নির্যাতন বিরোধী ধারাবাহিক শ্রমিক বিক্ষোভ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বর্ধিত ফি ও অগণতান্ত্রিক প্রশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন, বিকশিত হচ্ছে জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন, জাতিসত্ত্বার আন্দোলন, আড়িয়াল বিলে ভূমি থেকে উচ্ছেদের বিরুদ্ধেও চলছে গণপ্রতিরোধ। শাসকশ্রেণীর ভুয়া ‘স্বাধীনতা’, ‘গণতন্ত্র’র বিপরীতে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের শর্ত তৈরি হচ্ছে । কিন্তু আমরা আজ যে কতটা অথর্ব এবং জাতীয় স্বার্থবিমুখ তার প্রমাণ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আমরা জেনে-বুঝে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছি। আজ কোনটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ- গণতন্ত্রের জন্য জনগণের সংগ্রামের চেতনা, নাকি সেই চেতনাকে আড়াল করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিষ্ঠিত আনুষ্ঠানিকতা সর্বস্ব ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বার্থবাদী ভালোবাসার চেতনা? আমাদেরই ঠিক করতে হবে পথ।


১৪ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারের পর সরকারি প্রেসনোট
মোট গ্রেপ্তারকৃত ছাত্র এক হাজার ৩৩১ জন।
১৭ ফেব্রুয়ারি ছেড়ে দেয় এক হাজার ২১ জনকে এবং আটক রাখে ৩১০ জনকে।
১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন স্থগিত করে সরকার।
ছাত্রদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় পুলিশ ১৩, ১৪, ১৫, ১৭ ধারায় মামলা করে। মামলা নং ৪৭, তারিখ ১৪-০২-১৯৮৩।
আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারকৃত জাতীয় রাজনৈতিক নেতাদের বেশিরভাগ এখন বর্তমান অবৈধ সরকারের সদস্য এবং সেই কুখ্যাত স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদ এখন তাদের সহযোগী পুরাতন আর নতুন স্বৈরাচারে একাকার । । আজ কোটি কোটি বঞ্চিত জনগণের স্বপ্ন পুরণের একটিই পথ-বিপ্লব। এদেশ, জাতি ও জনগণ মুক্তি পায় নি; কিন্তু তার মুক্তির আকাঙ্খা কখনো দমে নি। তার লড়াই কখনো থামে নি। জাফর, জয়নাল, দিপালী, কাঞ্চনসহ লাখো শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে এ লড়াইকে সংগঠিত করার দায়িত্ব নিতে হবে আজকের তরুণ প্রজন্মকেই। আসুন, স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসে আওয়াজ তুলি:


নব্য স্বৈরাচার নিপাত যাক, স্বাধীনতা-গণতন্ত্র মুক্তি পাক!
শিক্ষার উপনিবেশিকীকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ, দলীয়করণ-ফ্যাসিকরণ রুখে দাঁড়ান! ‘ভ্যালেন্টাইন’ সংস্কৃতিসহ অশ্লীলতা, যৌনতা ও নারীর উপর যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধে গড়ে তুলুন!

ONN TV
payoneer
নিউজ আর্কাইভ
সর্বাধিক পঠিত
সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ ব্যাপী ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

সাতক্ষীরা  প্রতিনিধি: সখিপুর ইউনিয়নের সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ দিনব্যাপী ক্রীড়া, কুইজ, রচনা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বে-সরকারি প্রতিষ্ঠা

জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ
জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে গনসংযোগ করেছেন জেলা পরিষদের সদস্য প্রার্থী সোনিয়া পারভীন শাপলা। সোমবার

দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নবগত নির্বাহী অফিসারের সাথে ফুলের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়
 শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলা নবগত নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নের্তৃবৃন্দরা। সোমবার দুপুরে নির

দেবহাটায় ছাত্রলীগের ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট
৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট

মীর খায়রুল আলম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দেবহাটায় ছাত্রলীগের উদ্যেগে ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার গোপাখালি মাঠে দে

দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন
দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন

মীর খায়রুল আলম:: দেবহাটা উপজেলাকে মডেল করতে ছুটির দিনে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল-আসাদ। শুক্রবা

শিরোনাম