TURNER IT SOLUTION

রবিবার ২১ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ৫:৩১ am

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include() [function.include]: Failed opening 'usbd/config/connect2.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: mysql_num_rows() expects parameter 1 to be resource, boolean given in /home/onn24/public_html/details.php on line 84

মুক্তিযুদ্ধে মুক্তির গান | মোবারক হোসেন খান

  • মুক্তিযুদ্ধে মুক্তির গান  |  মোবারক হোসেন খান

    মুক্তিযুদ্ধে মুক্তির গান | মোবারক হোসেন খান

বিশ্বজুড়ে এখন চলছে গণতন্ত্রের আন্দোলন। দেশ বিভাগের পর থেকে বাংলাদেশ এ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলন শুরু করেছিল। ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান আর মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন। স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা।
আন্দোলন মানেই সঙ্গীত। আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত জনগণ। জনগণের সঙ্গে রাজনীতি। আর রাজনীতিতে আবশ্যক সঙ্গীত।

জনগণ, রাজনীতি আর সঙ্গীত একসূত্রে গাঁথা। জনগণকে নিয়েই রাজনীতি। জনগণ রাজনীতির উৎস। অন্যদিকে গণতন্ত্রের শক্তিও জনগণ। গণতন্ত্রে অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে সঙ্গীত আরেক শক্তির উৎস। জনগণের সঙ্গে সঙ্গীতের যোগাযোগ সরাসরি। কারণ সঙ্গীত মানুষের জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে সঙ্গীতের মতো শক্তি আর নেই। সঙ্গীতের মাঝে মানুষের মনকে অতি সহজেই আকর্ষণ করার গুণ রয়েছে। মানুষ ও সঙ্গীতের সম্পর্ক দুই ভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ। সভা সমিতিতে সঙ্গীত পরিবেশন প্রত্যক্ষ সম্পর্ক। দেশের প্রতি ভালোবাসার অনুপ্রেরণাসংবলিত গানের বাণী ও সুর পরোক্ষ সম্পর্ক।
একাত্তরের ২ থেকে ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক আহূত অসযোগ আন্দোলন এবং ২৬ মার্চ থেকে ডিসেম্বর ১৬ তারিখ মুক্তিযুদ্ধের সময় রচিত দেশপ্রেমমূলক গান বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা তার স্বাক্ষর বহন করে। যে কোনো আন্দোলন, তা রাজনৈতিক হোক বা সামাজিক বা অন্য কোনো জাতীয় আন্দোলন_ সব ক্ষেত্রে জনগণের সঙ্গে সঙ্গীতের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রাজনীতি বা জনগণের মাঝে সঙ্গীতের ভাব আলোচনা করা যায়। প্রথমে বায়ান্নর বাংলা ভাষা আন্দোলনের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে সঙ্গীতের প্রভাব সম্পর্কে সম্যক একটা চিত্র উদঘাটিত হয়। এ কথা সত্য যে, ভাষা আর সঙ্গীতের সম্পর্ক নিবিড়। ভাষায় সুরারোপ করেই সঙ্গীতের সৃষ্টি। গানের বাণী ভাষা থেকে সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের চেতনা জাগ্রত করার উৎস সঙ্গীত। অনুপ্রেরণার উৎস সঙ্গীত। বাংলাদেশের সঙ্গীতের সঙ্গে মানুষের টান তাদের হৃদয় থেকে উৎসারিত। সঙ্গীতের সঙ্গে মানুষের প্রাণের টান আছে, নাড়ির যোগ আছে। হৃদয়, প্রাণ, নাড়ির মধ্যে বিনি সুতোর একটা আকর্ষণ আছে বলেই বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষার জন্য গানের সুরে এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গানের সুরে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দিয়ে শহীদ হয়েছে। তাই প্রতি বছর একুশ এলেই জনগণের কণ্ঠে অনুরণিত হয় 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল 'আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি' গানটি। গান বা সঙ্গীত যে মানুষকে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে উদ্বুদ্ধ করে, দেশকে স্বাধীন করতে পারে, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা তার শ্রেষ্ঠতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বছর ঘুরে মার্চ মাসে স্বাধীনতা দিবস এলেই স্মরণ করিয়ে দেয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের কথা। কারণ মুক্তিযুদ্ধ আর ভাষা আন্দোলন একসূত্রে গাঁথা। একুশে ফেব্রুয়ারিতে জীবন দান, একুশের চেতনা। আর মার্চ-ডিসেম্বরের মুক্তিযুদ্ধ, দেশমাতৃকার মুক্তির চেতনা। আর এ চেতনার উৎস সঙ্গীত। তাই একুশের চেতনায় সঙ্গীত নবজীবনের দেদীপ্যমান উৎস হয়ে থাকবে, রইবে চিরকাল।
বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি রক্তক্ষয়ী প্রতিবাদ থেকে ভাষা আন্দোলনের শুরু। আর সে আন্দোলনই জোরদার হয়ে কালের গতিতে একাত্তরে রূপান্তরিত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হলো জনগণের আন্দোলন। জনগণের আন্দোলনকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য রচিত হলো অসংখ্য দেশাত্মবোধক সঙ্গীত। সেই সঙ্গীতের বাণী আর সুরে প্রকম্পিত হয়ে উঠল বাংলাদেশের আকাশ-বাতাস। ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই শুরু হয়েছিল ঊনসত্তরের গণআন্দোলন, আর গণআন্দোলন থেকে স্বাধীনতা। গণআন্দোলনের রুদ্ররূপের কাছে পরাভূত হয়েছিল স্বৈরাচারী শক্তি। সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গের প্রচ- রূপ স্বৈরাচারের পাষাণ কঠিন দেয়াল চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়ে সুগম করেছিল গণতন্ত্রের পথ। আইয়ুব শাহি হয়েছিল ধরাশায়ী। তেমনিভাবে মুক্তিযুদ্ধের পরাক্রান্ত আক্রমণে পতন ঘটেছিল
ইয়াহিয়া সরকারের। ভাষা আন্দোলন, গণআন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ_ সব ক্ষেত্রে সঙ্গীতের ভূমিকা ছিল অতীব গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্গীতের তীব্র ছোবল প্রতিটি আন্দোলনে ছিল অনুপ্রেরণার উৎস ও শক্তি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেপথ্য শক্তি সঙ্গীতের কিছু কথা।
আগেই বলেছি আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গীতের মেলবন্ধনের কথা। তবে স্বাধীনতা কিংবা এমনি ধরনের আন্দোলনে সব ধরনের গান অনুপ্রেরণার কাজ করতে পারে না। এজন্য চাই বিশেষায়িত গান। আর সে গান হলো দেশাত্মবোধক গান, জাগরণী গান, উজ্জীবনের গান, গণসঙ্গীত ইত্যাদি। গণসঙ্গীত দিয়েই শুরু করি। গণসঙ্গীত হলো জনগণের গান। জনগণকে যে গান উদ্দীপনা জোগায় সে গান। গানের ভেতর দিয়ে জনগণের দাবি আদায়ের গান, বৃহত্তর অর্থে, গণসঙ্গীত। এ গান জনগণের জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। গণসঙ্গীত প্রচলনের কার্যকারণ আছে। আর সে কারণটা হলো জনমানুষ বা জনগণ। জনগণকে বলা হয় শক্তির উৎস। বিশেষ করে রাজনীতিকদের কণ্ঠে এ শক্তির বাক্যটি অহরহ নিঃসৃত। কথায় কথায় তারা বলেন, জনগণের শক্তির জোরেই তারা নির্বাচনের তরী পার হয়েছেন। কথাটা অবশ্য একশত ভাগ সত্য। জনগণ তাদের সমর্থন করে বলেই নির্বাচিত হন। সুতরাং জনগণ তো শক্তি বটেই। অবশ্য গণসঙ্গীতের পরিবেশ একটু ভিন্ন ধরনের। রাজনৈতিক, সামাজিক সঙ্কট, অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে মূলত গণসঙ্গীতের পরিবেশনা। আরেকটু ব্যাখ্যা করা যায়, রাজনৈতিক নিপীড়ন, সামাজিক সঙ্কট উত্তরণ, সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের দ্বার রুদ্ধ করার নিমিত্ত জনগণকে সচেতন করার একমাত্র হাতিয়ার গণসঙ্গীত। যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে গণসঙ্গীতই মানুষকে উজ্জীবিত আর উদ্দীপ্ত রাখে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতারে নয় মাস এ গানেরই প্রতিধ্বনি আমরা শুনেছি।
দেশমাতৃকার বন্দনার জন্য যে গান সে গান দেশাত্মবোধক গান। এ গানের অনেক রূপ। উদ্দীপনা গান, জাগরণী গান, দেশপ্রেমমূলক গান, দেশের গান এমনি নামে এ গান বিশেষায়িত। এসব গানের পেছনে রয়েছে দেশের প্রতি ভালোবাসা। দেশমাতৃকার জন্য চেতনা, অনুভব, উপলব্ধি আর দেশপ্রেম। কবির কণ্ঠে তাই উচ্চারিত হয় 'ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা'; শিল্পীর কণ্ঠে গীত হয় 'মোদের গরব মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা'; দেশের মানুষের কণ্ঠে ভেসে আসে, 'একি অপরূপ রূপে মা তোমার হেরিণু পল্লী জননী'; কিংবা ঝঙ্কৃত হয় 'ধন ধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা... সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি'; মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে সেই অমর গান 'আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি'। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এমনি সব দেশাত্মবোধক গান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণে সঞ্চারিত করেছে যুদ্ধের চেতনা, দেশের মানুষের মনে জাগিয়েছে স্বাধীনতার আশার বাণী।
মুক্তিযুদ্ধে দেশাত্মবোধক গানের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মূলত এ গান রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের, দেশের অভ্যন্তরে যুদ্ধরত গেরিলা যোদ্ধাদের এবং দেশে অবরুদ্ধ জনগণের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করে রেখেছিল। কলকাতায় গীতিকার গোবিন্দ হালদার রচিত অগি্নঝরা গানে সুর দিলেন সঙ্গীত পরিচালক সমর দাস। সে গান ধমনীর রক্তে আগুনের স্ফুলিঙ্গ হয়ে দেহ-মনকে দেশমাতৃকার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে রেখেছিল_

পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে
রক্তলাল রক্তলাল রক্তলাল
জোয়ার এসেছে জন সমুদ্রে
রক্তলাল রক্তলাল রক্তলাল।
... ... ...
ছিঁড়ে ফেলো সব শত্রু জাল
শত্রু জাল শত্রু জাল

মুক্তিযুদ্ধে যারা যুদ্ধ করেছে তারা দেশের সাধারণ সন্তান। যুদ্ধ তাদের ওপর পাকিস্তান হানাদার বাহিনী জোর করে চাপিয়ে দিয়েছিল। তারা সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে শত্রুপক্ষকে বিনাশ করার লক্ষ্যে সংগ্রাম করেছে। তাদের উদ্দীপ্ত রাখতে গান লিখলেন কবি সিকান্দার আবু জাফর। সুর দিলেন সুরকার শেখ লুৎফর রহমান। শিল্পীরা গাইলেন_

জনতার সংগ্রাম চলবেই
আমাদের সংগ্রাম চলবেই
জনতার সংগ্রাম চলবেই
... ... ...
আমাদের শপথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে
নতুন শিখা চলবেই
জনতার সংগ্রাম চলবেই

২৬ মার্চের একটু আগে ফিরে যাই। তখন বঙ্গবন্ধু ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলন চলছে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিবাদী স্বরকে সরব করে তোলার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে দেশপ্রেমের প্রেরণা জোগাতে একদিন সন্ধ্যা সাতটা পঁচিশ মিনিটে প্রচারিত হলো হৃদয়মথিত করা একটি দেশাত্মবোধক গান। গানটির রচয়িতা গীতিকার নঈম গহর ও সুরকার আজাদ রহমান, কণ্ঠশিল্পী ফিরোজা বেগম। এ গানটি কণ্ঠশিল্পীর কণ্ঠেও রেকর্ড করা হয়েছিল।

জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো
এমন করে আকুল হয়ে আমায় তুমি ডাক
তোমার কথায় হাসতে পারি
তোমার কথায় কাঁদতে পারি
মরতে পারি তোমার বুকে
বুকে যদি রাখো আমায়
বুকে যদি রাখো মাগো ...

এক ফাল্গুনে ভাষার জন্য শহীদ হয়েছিল বাংলাদেশের ভাষাসৈনিক সন্তানেরা। উনিশ বছর পর পাক হানাদার বাহিনীর নখদন্ত চিরতরে ভেঙে দেয়ার শপথ নিয়ে মুক্তিসেনারা অবতীর্ণ হয়েছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে। তাদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য সেদিন রচিত হয়েছিল এক অবিস্মরণীয় গান। সে গান লিখেছেন গোবিন্দ হালদার। সুরারোপ ও কণ্ঠ দিয়েছেন শিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা আপেল মাহমুদ_

মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি।
মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি।
... ... ... ...
মোরা নতুন একটি কবিতা লিখতে যুদ্ধ করি।
মোরা নতুন একটি গানের জন্য যুদ্ধ করি।
মোরা সারা বিশ্বে শান্তি বাঁচাতে যুদ্ধ করি। ...

শিল্পী আপেল মাহমুদ দেশের নবীন মানুষকে প্রতীকী করে উদ্দীপনামূলক গান লিখলেন মুক্তিযোদ্ধার মনে অনুপ্রেরণা জাগাতে। শিল্পী নিজেই সুরারোপ করলেন এবং কণ্ঠ দিলেন সেই গানে_

তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিব রে,
আমরা ক'জন নতুন মাঝি
হাল ধরেছি শক্ত করে রে 
... ... ...
তবু তরী বাইতে হবে
খেয়া পাড়ি দিতেই হবে
যতই ঝড় উঠুক সাগরে 

বাংলাদেশের রূপের বর্ণনা দিয়ে কলকাতার গীতিকার শ্যামল গুপ্ত লিখেছেন একটি সি্নগ্ধ শ্যামল গান। বাংলার চিরন্তন রূপ দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। হাজার বছর পর হলেও বাংলার রূপের আকর্ষণে আবার ফিরে আসতে হয়। এ গানের ভেতর দিয়ে চিরায়ত বাংলার রূপ-ঐশ্বর্যের কথা বলেই মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এমন সুন্দর দেশটি রাজনৈতিক চক্রান্তে পরাধীনতার শিকল পরে আছে। এ পরাধীনতার শিকল ভাঙতে হবে। দেশকে স্বাধীন করে তার মুক্ত আলো-বাতাসের স্বাদ নিতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা মৃত্যুর সীমানা ছাড়িয়ে যেতেও প্রস্তুত। অপরেশ লাহিড়ীর সুরে গানটি গেয়েছেন শব্দসৈনিক মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী মোহাম্মদ আবদুল জব্বার_
হাজার বছর পরে আবার এসেছি ফিরে
বাংলার বুকে আছি দাঁড়িয়ে।
... ... ...
শুনছি তোমার ডাকে জীবন ডাকছে যেন
মরণের সীমানাটা ছাড়িয়ে 

বাংলাদেশ সোনার দেশ। এ দেশ তাই সোনার বাংলা। এ দেশের মাটিতে সোনা ফলে। এ দেশের মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি। এ দেশের ছেলে সোনার ছেলে। বাংলার মাটিকে ভালোবেসে জীবন বলি দিতে তারা যুদ্ধ করে। তাই তারা মুক্তিযোদ্ধা। তাদের পূর্বসূরি রফিক, শফিক, বরকত, আর ঈশা খাঁ, তিতুমীরের দেশের স্বাধীনতার জন্য তারা মুক্তিযুদ্ধে নেমেছে। জয় তাদের সুনিশ্চিত। গীতিকার, ভাষাসৈনিক ও সুরকার আবদুল লতিফ সেই দেশের কথাই মুক্তিযোদ্ধাদের শুনিয়েছেন_
সোনা সোনা সোনা লোকে বলে সোনা
সোনা নয় তত খাঁটি_
বলো যত খাঁটি তার চেয়ে খাঁটি
বাংলাদেশের মাটি রে
আমার বাংলাদেশের মাটি ...

দেশের মুক্তি আর বেশি দূরে নয়। বিজয়ের সূর্যটা উদয়ের পথে। শত্রুরা ভীত-দিশাহারা।
মুক্তিযোদ্ধাদের অহর্নিশ আক্রমণে দুশমনরা শতধাবিচ্ছিন্ন। আর দেরি নয়, জয়ের ডঙ্কা বাজিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় এখন। মুক্তির আলো খুলে দেয়ার লক্ষ্যে, মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রসর হওয়ার জন্য গীতিকার নঈম গহর রচিত গানের বাণীতে অনুপ্রেরণার শক্তি। সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার সমর দাস সুর দিলেন সে গানটিতে_

নোঙ্গর তোল তোল
সময় যে হলো হলো
নোঙ্গর তোল তোল 
... ... ...
হৃদয়ে তোমার মুক্তির আলো
আলোর দুয়ার খোল
আলোর দুয়ার খোল 

মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস শত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রামের লড়াই। ভীরু পাকবাহিনী পরাজয়বরণ করল মুক্তিযোদ্ধাদের আগাম সাহসের কাছে। যুদ্ধে প্রাণ দিল অসংখ্য বাঙালি বীর সন্তান, অগণিত মা-বোন। এলো মুক্তি, এলো স্বাধীনতা। একটি লাল-সবুজ পতাকা উড়ল আকাশে। যারা দেশের জন্য প্রাণ বলি দিয়ে গেল, রক্তের বিনিময়ে দেশকে স্বাধীন করল তাদের কথা মানুষ ভোলেনি। কলকাতার গীতিকার গোবিন্দ হালদার রচিত সে গানে সুরারোপ করলেন শিল্পী আপেল মাহমুদ এবং কণ্ঠ দিলেন শিল্পী স্বপ্না রায়_
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্তে রঞ্জিত। লাখ লাখ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। শত্রুর মুখোমুখি যুদ্ধ করে প্রাণ দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধারা নির্ভয়ে। বুজদিল পাকসেনাদের বেয়নেট আর গুলির শিকার হয়েছে অবরুদ্ধ দেশের অগণিত মানুষ। তাদের শহীদপ্রাণ স্বাধীনতার রক্তিম অক্ষর। তাদের প্রতি শ্রদ্ধায় অবনত দেশ ও জাতি। সেই শহীদদের প্রতি সালাম নিবেদন করে মুক্তিযোদ্ধা কবি-গীতিকার ফজল-এ-খোদা লিখলেন এক অমর গান এবং তাতে কণ্ঠ দিলেন শিল্পী মোহাম্মদ আবদুল জব্বার_

সালাম সালাম হাজার সালাম
সকল শহীদ স্মরণে,
আমার হৃদয় রেখে যেতে চাই
তাদের স্মৃতির চরণে 
... ... ...
বাংলাদেশের লাখো বাঙালি
জয়ের নেশায় চলে রক্ত ঢালি
আলোর দেয়ালি ঘরে ঘরে জ্বালি
ঘুচিয়ে মনের অাঁধার কালি
শহীদ স্মৃতি বরণে 

মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলো। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হলো। নতুন পতাকা শোভিত হলো ঘরে ঘরে। আনন্দের জোয়ারে ভেসে গেল বাঙালির হৃদয়। সেই বিজয় চুয়ালি্লশ বছর আগের। এখনো বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে অনেক যুদ্ধ বাকি। সেই যুদ্ধেও জয়লাভ হবে নিশ্চিত।

ONN TV
payoneer
নিউজ আর্কাইভ
সর্বাধিক পঠিত
সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ ব্যাপী ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

সাতক্ষীরা  প্রতিনিধি: সখিপুর ইউনিয়নের সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ দিনব্যাপী ক্রীড়া, কুইজ, রচনা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বে-সরকারি প্রতিষ্ঠা

জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ
জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে গনসংযোগ করেছেন জেলা পরিষদের সদস্য প্রার্থী সোনিয়া পারভীন শাপলা। সোমবার

দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নবগত নির্বাহী অফিসারের সাথে ফুলের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়
 শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলা নবগত নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নের্তৃবৃন্দরা। সোমবার দুপুরে নির

দেবহাটায় ছাত্রলীগের ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট
৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট

মীর খায়রুল আলম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দেবহাটায় ছাত্রলীগের উদ্যেগে ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার গোপাখালি মাঠে দে

দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন
দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন

মীর খায়রুল আলম:: দেবহাটা উপজেলাকে মডেল করতে ছুটির দিনে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল-আসাদ। শুক্রবা

শিরোনাম