TURNER IT SOLUTION

রবিবার ২১ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ৫:২৯ am

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include(usbd/config/connect2.php) [function.include]: failed to open stream: No such file or directory in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: include() [function.include]: Failed opening 'usbd/config/connect2.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/onn24/public_html/details.php on line 82

Warning: mysql_num_rows() expects parameter 1 to be resource, boolean given in /home/onn24/public_html/details.php on line 84

বাবা ও মা আমার জীবনের এক অবিনশ্বর আলোকবর্তিকা

  • বাবা ও মা আমার জীবনের এক অবিনশ্বর আলোকবর্তিকা

    বাবা ও মা আমার জীবনের এক অবিনশ্বর আলোকবর্তিকা

মহান করুণাময় রাব্বুল আলামিনের অমোঘ নিয়মে পৃথিবী নামক পাঠশালায় আসতে হয়, পরশে ভরা বাবা ও মায়ের মাধ্যমে। বাবা ও মা সন্তানদের পরম স্নেহের চাদরে ঢাকা একমাত্র নিরাপদ আশ্রয় স্থল। মায়ের দীর্ঘ জঠর যন্ত্রণার পরে শুভাগমন ঘটে আমাদের। আর বাবার হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম থাকে আমাদের ঘিরে। বাবা মায়ের হৃদয় নিংড়ানো স্বপ্নের বাস্তব প্রতিক হয়ে যায় আমরা। তাদের আকাশ জোড়া স্বপ্নের মাঝে শুধুই আমরা। মা ও বাবা একজন সন্তানের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি-সাহস ও প্রেরণা।
সেই বাবা ও মা যখন স্নেহের মজবুত বাঁধন কেটে, বাঁশের পালকিতে চড়ে চলে যায় অন্যলোকে সে কি বিচ্ছেদের যাতনার অনুভূতির ভাষা আজও তৈরি হয়নি পৃথিবীতে।
বাবা ও মা হারানো সন্তানদের থাকে হাজারো ব্যাথাতুর স্মৃতি। স্মৃতির বর্ণনার কাছে হার মানাবে কাগজ ও কলম। বাবা ও মাকে ঘিরে আমার বাস্তব স্মৃতির ভাবনার ফ্রেমে জড়িয়ে থাকা কিছু অব্যক্ত কথা লিখণীর মাধ্যমে প্রকাশ করতে চাই।
অভাবের কালো আধারে ঢাকা ছিল আমাদের সংসার। আমাদের মানুষের মতো মানুষ করার দৃড় বলিয়ানে রাত দিন কঠোর পরিশ্রমে মগ্ন ছিল আমার বাবা। আমার বাবা মরহুম নিছার আলী সানা অজপাড়া গাঁয়ের কাঁদা মাখা সাধারণ একজন মানুষ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাউন্ডারীতে পা না রাখলেও বাস্তব শিক্ষার গন্ডিতে বিচরণ ছিল অহরহ তাঁর। আমার মা মরহুমা সুখজান বেগম ছিলেন একজন নিরেট আদর্শ গৃহিনী। অভাবের সংসারে বাবার সাথে সংগ্রাম করেছে অবিরাম ও বিররিতহীনভাবে। মায়ের সুদক্ষ সংসার পরিচালনার পথ ধরেই আমাদের সংসারের চাকা সচল হতে থাকে। মায়ের অবদানের ছোঁয়া লেগে আছে আমাদের সংসারের সর্বস্তরে, আজ শুধুই সে গুলো ব্যাথার স্মৃতি। বাবাকে বাদ দিয়ে যেমন মা সফল নয়, তেমনি মাকে বাদ দিয়ে বাবা সফল নয়। একজন যেন আরেকজনের পরিপূরক। অনুভূতির পিছনে তাকালে আমার পরম মমতাময়ী মায়ের সংসারের অবদানের কথা স্মৃতিতে বার বার ভাঁসে। আমাদের মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দিতে যে কোন কাজ হাতে তুলে দিতে কুন্ঠাবোধ করেনি আমার মা। তারই বাস্তব উদাহরণ-আমাদের যশোর অঞ্চলে এক সময় বেশি প্রচলন ছিল খেজুরের পাতা দিয়ে পাটি বোনা। মা তার নিপুন হাতে কয়েকদিন ধরে পরিশ্রমের বিনিময়ে পাশের  বাড়ীর এক, যে কোন ব্যক্তির অর্ডারের পাটি বুনে দিয়ে পেত মাত্র পনের থেকে কুড়ি টাকা। শুধু এ কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি সংসারের সব কাজ গুছিয়ে অবসর সময়ে কাঁথা সেলাইও করেছেন। এ ত্যাগ ছিল শুধু মাত্র নাড়ী ছেড়া ধনদের জন্য। আমার মা ছিল শত গুনি একজন মানুুষ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তেমন ছিলনা তার, বিবেকের তাড়নায় স্বইচ্ছায় বয়স্ক শিক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একেবারে শেষ জীবনে এসে বর্ণমালা যশোরের আওতায় বয়স্ক শিক্ষার অধিনে লেখা-পড়ার প্রাথমিক হাতেখড়ি ভালভাবেই রপ্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে ভালো ভাবেই পত্র, পত্রিকা, বই পুস্তক অবলিলায় পড়তে পারতেন তিনি। আমরা পাঁচ ভাই-বোন, বোন তিন জন, ভাই দুই জন। পাঁচ ভাই-বোনদের মধ্যে আমি দ্বিতীয় ও আমার মায়ের প্রথম ছেলে সন্তান ছিলাম আমি। তাই মায়ের কাজ থেকে বোধ হয় একটু বাড়তি স্নেহের পরশে ঢাকা থাকতাম। আমাদের গ্রামের বাড়ীতে সে সময় রান্না ঘরে খাওয়ার রেওয়াজটা একটু বেশি 
ছিল। ভাই-বোন সবাই এক সাথে গোল বৃত্তের মতো বসে পড়তাম আর মা ভাত তরকারি বেড়ে দিত আমরা খেতাম। কোন কোন সময় আমার বড় বোন রেহেনা খাতুন রিনা মায়ের স্থানে বসে আমাদের কে বেড়ে খাওয়াতেন। সে খাওয়াতে আমার আত্মা তৃপ্তি পেতনা। আমার মা সেটা অনুভব করতো এবং বড় বোনকে বলতো ‘ওরে আর একটু তরকারি বেশি করে দে ওর মনে হয় পেট ভরিনী’ বড় বোন পেট ভরে তরকারি দিলেও আমার মন ভরতো না। তারপর মা নিজ হাতে অল্প একটু তরকারির ঝোল তুলে দিত এর পর আমার আত্মা তৃপ্তি পেত। মায়ের নিজ হাতে তুলে দেওয়া সে এক অনন্য তৃপ্তি।
২৫শে অক্টোবর ২০১১, ছোট একটি সড়ক দূর্ঘনায় মা চলে গেলেন আমাদের ব্যাথার সাগরে ভাঁসিয়ে। সেই থেকে আর পেট ভরে ভাত খাওয়া হয় না আমার। আজ মা নেই তাই ক্ষুধার্ত পেটের খোঁজ রাখার কেই নেই।
এভাবে হঠাৎ মা জননীকে হারাবো কখনো ভাবতে পারিনি। একজন সন্তানের জন্য পৃথিবীর সবেচেয়ে বিশ্বস্থ, আস্থাশীল, নির্ভেজাল, খাঁটি ভালবাসার আঁধার, স্রষ্টার অন্যতম শ্রেষ্ঠ রহমত তার ‘‘মা’’। মাকে হারিয়ে আমি যেন পায়ের নীচের থেকে মাটি হারালাম। নিজেকে এতো অসহায় আর কখনো মনে হয়নি। শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের দিনগুলোতে মায়ের অকৃত্রিম স্নেহ, ভালোবাসার স্মৃতি আমাকে প্রতিটি মুহূর্তে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। বাবার বকুনি ও কড়া শাসন থেকে বাঁচাতে সব সময় ঢাল পেতে দিতেন মা। দৃঢ়তার সাথে বলতেন ‘‘আমার  ছেলে কোন খারাপ কাজের সাথে জড়িত নয়’’।
যার গর্ভে ধারণ হওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। যিনি ছিলেন আমার শিরা-উপশিরায় প্রবাহিত রক্ত কণিকা, আমার সমগ্র জীবনের এক অবিনশ্বর আলোকবর্তিকা। জীবনে সকল ভালো কাজের অমীয় প্রেরণা শক্তি ছিল আমার মা। মাকে পাই আমার কর্মে প্রেরণার উৎস হিসেবে। মায়ের প্রতিটি উপদেশ, হিম্মত বাণী আমাকে হতাশার ও জরাজীর্ণতাকে উপড়ে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার মনোবল যোগায়। ভাতৃত্ববোধ, আত্মীয়তার বন্ধন, সামাজিক দায় দায়িত্ব, হালাল রুজির অবিরাম সংগ্রাম এসব কিছুই আমার মায়ের উপদেশ বাণীর কিছু অংশ।
আমি আমার মায়ের চোখের মণি ছিলাম। তবে সন্তানদের তিনি  বৈষম্য করতেন না। ৩ মেয়ে ও ২ পুত্র সন্তানকে মানুষ করতে তিনি নিজের জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তার জীবনের সকল আহ্লাদ সুখ শান্তি বিসর্জন দেন।
আমার বাবার প্রতি মায়ের ছিল অসাধারণ ভক্তি ও ভালোবাসা। যেন তাকে চোখের আড়াল হতে দিবেন না। বাবাও তাই। স্বামী-স্ত্রীর এমন মিল এ অসুস্থ্য সমাজে খুব কমই দেখা যায়। মান-অভিমান হলে তা আবার ঝড়ের  বেগে স্বাভাবিক হয়ে যেতো। বাবাও আমার মায়ের উপর খুবই নির্ভরশীল ছিলেন। মায়ের মৃত্যুতে আমার বাবা অসহায়, হতবিহবল, অবুঝ এতিম শিশুর মতো হয়ে যান। অনেকটা বৈচিত্রময় জীবন ছিল তার। চরম বাস্তবতার সাথে সংগ্রাম করতে করতে জীবনের সময় ফুরিয়ে আসে। আমার মায়ের মৃত্যুর ৮ মাস পরেই ১৫ই  জুলাই ২০১২ ইং তারিখে সন্তানের প্রতি মমত্ববোধের কারণে অসুস্থ্য শরীর নিয়েই তিনি ঢাকাতে আমার বাসায় এসে শেষ নিঃশ্বাষ ত্যাগ করেন। বাবা ও মায়ের জীবদ্দশায় ইচ্ছায় আমাদের বাড়ীর সাথেই দাফন করা হয় ।
বাবা ও মায়ের মৃত্যুর পর আমি ও পরিবারের সকলে মিলে তাঁদের স্মৃতি ও মহৎ কর্ম সমূহকে ধরে রাখতে গঠন করি ‘নিসু ফাউন্ডেশন’। বাবার নামের ‘নি’ আর মায়ের নামের ‘সু’ দুজনের নামের সমন্বয়ে নিসু ফাউন্ডেশন নাম করণ করি। আল্লাহ্ আমাদের ভালো ভালো কাজের বিনিময়ে আমাদের শ্রদ্ধেয় মা-বাবার পরকালীন সাফল্য বয়ে আনুক। জান্নাত নসীব করুন, আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের দরবারে সন্তান হিসেবে এই আকুল মুনাজাত।
লেখক : এস. এম. হাফিজুর রহমান
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, নিসু ফাউন্ডেশন। 

ONN TV
payoneer
নিউজ আর্কাইভ
সর্বাধিক পঠিত
সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ ব্যাপী ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

সাতক্ষীরা  প্রতিনিধি: সখিপুর ইউনিয়নের সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ দিনব্যাপী ক্রীড়া, কুইজ, রচনা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বে-সরকারি প্রতিষ্ঠা

জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ
জেলা পরিষদের সদস্য প্রাথী শাপলার গনসংযোগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে গনসংযোগ করেছেন জেলা পরিষদের সদস্য প্রার্থী সোনিয়া পারভীন শাপলা। সোমবার

দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নবগত নির্বাহী অফিসারের সাথে ফুলের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়
 শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলা নবগত নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের নের্তৃবৃন্দরা। সোমবার দুপুরে নির

দেবহাটায় ছাত্রলীগের ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট
৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট

মীর খায়রুল আলম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দেবহাটায় ছাত্রলীগের উদ্যেগে ৪দলীয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার গোপাখালি মাঠে দে

দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন
দেবহাটায় ইএনও’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন

মীর খায়রুল আলম:: দেবহাটা উপজেলাকে মডেল করতে ছুটির দিনে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল-আসাদ। শুক্রবা

শিরোনাম